ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৫ ১৫:৩০:৫৭
ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
মো. হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদসহ সংশ্লিষ্টদের করা সংবাদ সম্মেলনে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তথ্য উপস্থাপনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. রবিউল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার ছোয়ানি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবিউল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী মোছা. জেবউন নেহার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফুলবাড়ীর রাঙ্গামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর-১৭৪-এর ১১৪৫ দাগে মোট ৩২ শতক জমি ছিল। এর মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে অবশিষ্ট থাকে ২৬ শতক। তাঁদের দাবি, ১৯৮৮ সালে তাঁর শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম ওই জমির ১৬ শতক বৈধভাবে ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে একই জমির বিষয়ে ১৯৯১ সালে ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের লোকজন জমিটি ক্রয়ের দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেবউন নেহার আরও বলেন, জমিটির খারিজ, জরিপ, ৩০ ধারায় আপত্তি ও ৩১ ধারায় আপিলসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ায় মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রয়েছে। সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাঁরা জমিটির মালিকানা দাবি করছেন বলে জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদসহ সংশ্লিষ্টরা তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করার পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, তাঁদের এবং প্রতিপক্ষের মূল দলিল, সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য তাঁরা অনুরোধ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এনসিপি মানুষের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু দলের নামপরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি বিভিন্ন দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার বা খবরদারি করেন, তাহলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের অভিযোগ, জমির দলিলপত্র, আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবার জমি বিরোধের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ সময় তাঁরা আরও বলেন, বৈধভাবে ক্রয় করা এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দখলে থাকা জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ যেন কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সত্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ